
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নতুন আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা এতে অংশ নিচ্ছেন...

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর ছাপ ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন...

শুরুর দিকে ফেসবুক বা সামাজিকমাধ্যমকে কেবল বিনোদন বা যোগাযোগের মাধ্যম মনে করা হলেও এখন আর সেই সুযোগ নেই। বর্তমানে এসব মাধ্যম ব্যবহারকারীর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মীয় বিশ্বাস, ক্রয়ক্ষমতা, সামাজিক অবস্থান, জীবনধারা, পেশাগত পরিচয়, স্বাস্থ্যসচেতনতা, পছন্দ-অপছন্দ, আদর্শ, বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা, মানসিকতা এবং পারিবারিক পটভূমি সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আপনি হয়তো হেলায় সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার করতে গিয়ে এমন কিছু পোস্ট করছেন, যা পরবর্তীতে আপনার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব পোস্টের কারণে আপনাকে নানা ধরনের সমস্যায়ও পড়তে হতে পারে। কারণ, সামাজিকমাধ্যমে আপনার আইডি বা হ্যান্ডেলের দিকে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নজর থাকতে পারে। কখনো কখনো বিশেষ প্রয়োজনে সামাজিকমাধ্যমে আপনার প্রকাশ্য তথ্য ও কার্যক্রম যাচাই করা হয়। এসব বিষয় হয়তো কখনো আপনাকে জানানো হয় না, কিংবা আপনি নিজেও তা জানতে পারেন না। অথচ এর মধ্যেই আপনার ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যেতে পারে। আজ আমরা এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলো সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ বা শেয়ার করার আগে সতর্ক হওয়া উচিত। একই সঙ্গে এসব পোস্ট বা কার্যক্রম কীভাবে আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে ক্ষতির কারণ হতে পারে, সেটিও তুলে ধরব। ১. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা একজন ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা। অনেক সময় না বুঝে বা আবেগের বশে আমরা নিজেরাই এসব তথ্য প্রকাশ করে ফেলি, যা পরবর্তীতে বিপদের কারণ হতে পারে। যেমন, আপনি কোনো একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শুরু করেছেন। এ জন্য আপনার ট্রেড লাইসেন্সটির ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে দিলেন, যেখানে আপনার ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। আপনার প্রতিযোগী বা যেকোনো ক্ষতিকারক ব্যক্তি সেটি ডাউনলোড করে রাখতে পারে এবং আপনার ব্যবসার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে। একইভাবে নিজের বা অন্য কারও ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা, ই-মেইল আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সামাজিকমাধ্যমে বা জনসমক্ষে ছড়িয়ে দেওয়া মারাত্মক ভুল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি আইনের দৃষ্টিতে অপরাধও হতে পারে। ২. লোকেশন বা অবস্থান রিয়েল-টাইম লোকেশন চেক-ইন, বাড়ির সঠিক ঠিকানা বা নিয়মিত যাতায়াতের রুট প্রকাশ করা নিরাপদ নয়। এটি নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ধরুন, কেউ একজন আপনার ক্ষতি করতে চায়। আপনি নিয়মিত লোকেশন প্রকাশ করলে সে আপনাকে ট্র্যাক করতে পারবে—আপনি কোন সময়ে সাধারণত কোথায় থাকেন। এতে তার পরিকল্পনা করতে সুবিধা হবে। এভাবে আপনারই শেয়ার করা তথ্য আপনার বিরুদ্ধে নানাভাবে ব্যবহার হতে পারে। ৩. ব্যক্তিগত ছবি নিজের বা অন্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মুহূর্ত, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা অপ্রস্তুত অবস্থার ছবি বা ভিডিও তাঁর অনুমতি বা সম্মতি ছাড়া ফেসবুকে বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা বিপজ্জনক হতে পারে। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যক্তির চরিত্রহনন বা দলীয় ট্যাগিংয়ে এমন ছবি অহরহ ব্যবহার করা হয়। এ জন্য হরহামেশা মানুষের সঙ্গে ছবি প্রকাশ না করাই শ্রেয়। ধরুন, আপনি আপনার প্রেমিকা বা স্ত্রীর সঙ্গে কোথাও ঘুরতে গেলেন। সেখানে আপনি বেশ ঘনিষ্ঠভাবে ছবি তুলে সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করলেন। মনে রাখা দরকার, আপনার আশপাশের সব মানুষ আপনার মতো করে বিষয়টি দেখবেন না। কিন্তু আপনি ছবিটি পোস্ট করেছেন সবার দেখার জন্য। এমন হতে পারে, আপনার অফিসের বস এই ছবি দেখার পর আপনার ব্যক্তিত্ব বা পেশাদারিত্ব সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতে পারেন। এতে অফিসের পরবর্তী নানা সিদ্ধান্তে আপনার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ৪. অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রেম, দাম্পত্য কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। সম্পর্কের ভালো মুহূর্ত প্রকাশ করা যেমন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, তেমনি সম্পর্ক খারাপ হলে সেই ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য, অভিযোগ, কথোপকথন বা অন্তরঙ্গ বিষয় জনসমক্ষে তুলে ধরা আরও সংবেদনশীল ব্যাপার। এতে শুধু অন্য ব্যক্তির গোপনীয়তাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, আপনার নিজের বিচক্ষণতা সম্পর্কেও মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। যেমন, আপনার একটি সম্পর্ক ভেঙে গেছে। ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথন, ছবি এবং সম্পর্কের বিভিন্ন ঘটনা ফেসবুকে প্রকাশ করলেন। কয়েক বছর পর আপনি একটি দায়িত্বশীল চাকরির জন্য আবেদন করলেন। পুরোনো পোস্টগুলো সামনে এলে নিয়োগকর্তা ভাবতে পারেন-ব্যক্তিগত বিরোধে আপনি যদি গোপন তথ্য প্রকাশ করেন, পেশাগত বিরোধেও কি একই আচরণ করবেন? ৫. চ্যাট বা ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশট শেয়ার কেউ আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো বার্তা পাঠিয়েছেন মানেই তিনি সেটি জনসমক্ষে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন-এমন নয়। ব্যক্তিগত চ্যাট, ই-মেইল বা ইনবক্সের স্ক্রিনশট অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করলে বিশ্বাসের সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। কথোপকথনের প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে আরও গুরুতর সমস্যাও তৈরি হতে পারে। ধরুন, অফিসের একজন সহকর্মী ব্যক্তিগত চ্যাটে তাঁর একটি ভুলের কথা স্বীকার করে আপনার কাছে পরামর্শ চাইলেন। আপনি মজা করে সেই কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফেসবুকে দিয়ে দিলেন। তিনি বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি অন্য সহকর্মীরাও এরপর আপনার সঙ্গে ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল কোনো কথা বলতে ভয় পেতে পারেন। অর্থাৎ একটি পোস্ট আপনার বিশ্বাসযোগ্যতাই নষ্ট করে দিতে পারে। ৬. আবেগ বা রাগের বহিঃপ্রকাশ রাগের সময় মানুষ অনেক কথা বলে বা লেখে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় হয়তো কখনোই বলত না। সামাজিকমাধ্যমের সমস্যা হলো, রাগ কমে গেলে পোস্ট মুছে ফেলা গেলেও ততক্ষণে কেউ সেটির স্ক্রিনশট নিয়ে রাখতে পারে। তাই কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ঘটনার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আক্রমণাত্মক বা মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করা পেশাগত ও ব্যক্তিগত-দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর হতে পারে। যেমন, কোনো সহকর্মীর সঙ্গে আপনার ঝগড়া হলো। প্রচণ্ড রাগের মাথায় তাঁকে উদ্দেশ করে কিছু অপমানজনক কথা লিখলেন। দুই ঘণ্টা পর রাগ কমলে পোস্টটি মুছে দিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই সেটির স্ক্রিনশট আপনার অফিসের একটি গ্রুপে পৌঁছে গেছে। একটি ক্ষণিকের রাগ তখন আপনার দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ৭. হতাশা আপনি কোনো বিষয় নিয়ে চরম হতাশ হয়েছেন। সেই হতাশা ও তীব্র ক্ষোভ সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করলেন। এর মাধ্যমে আপনি হয়তো সাময়িকভাবে নিজের মনের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারলেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সফল বা বিচক্ষণ মানুষ সাধারণত ক্ষোভ বা হতাশা প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন। আপনি যখন সামাজিকমাধ্যমে নিজেকে বারবার হতাশাগ্রস্ত বা অতিমাত্রায় নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করবেন, তখন আপনাকে নিয়ে ইতিবাচক ধারণা পোষণকারী ব্যক্তি বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আপনার ওপর গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারেন। অন্যদিকে আপনার হতাশা দেখে যারা আপনার ক্ষতি কামনা করে, তারা আনন্দিত হতে পারে। ৮. অমর্যাদাকর ভাষা অনেক সময় স্ট্যাটাস বা কমেন্টে অনেকে নানা ধরনের বিদ্রূপাত্মক, আক্রমণাত্মক বা কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন। মনে রাখা দরকার, আপনার স্ট্যাটাস বা কমেন্ট আসলে গোপনীয় বিষয় নয়; এটি প্রকাশ্যে অনেকেই দেখতে পারেন। তাঁদের মধ্যে আপনার শিক্ষক, প্রতিবেশী, সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তারা আপনার ভাষার ব্যবহার দেখে আপনাকে আক্রমণাত্মক বা অসৌজন্যমূলক ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। ফলে আপনাকে কোনো দায়িত্ব দিলে আপনি টিমের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে পারেন-এমন ধারণা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে আপনার অমর্যাদাকর আচরণ দেখার ফলে কোনো কাজ বা চাকরির জন্য রেফারেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার পরিচিতজনেরাও বিরত থাকতে পারেন। ৯. সংবেদনশীল বা উসকানিমূলক মন্তব্য ধর্ম, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ, অঞ্চল কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ, অবমাননাকর বা উসকানিমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এ ধরনের মন্তব্য সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি আপনার পেশাগত গ্রহণযোগ্যতাও ক্ষুণ্ন করতে পারে। কিছু বক্তব্য আইনগত সমস্যাও তৈরি করতে পারে। আপনার ফেসবুককে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে যেমন, আপনি কোনো একটি সম্প্রদায়কে নিয়ে বিদ্রূপ করে একটি মন্তব্য করলেন। কয়েক বছর পর এমন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করলেন, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম, অঞ্চল ও পটভূমির মানুষ কাজ করেন। আপনার পুরোনো মন্তব্যটি সামনে এলে প্রতিষ্ঠানটি আশঙ্কা করতে পারে যে, আপনাকে নিয়োগ দিলে কর্মপরিবেশ বা প্রতিষ্ঠানের সুনামের জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। ১০. যাচাইহীন রাজনৈতিক বা সামাজিক মেরুকরণমূলক মতামত রাজনীতি বা বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মতামত থাকতেই পারে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা মতাদর্শের পক্ষে-বিপক্ষে অন্ধভাবে, যাচাই না করে কিংবা উসকানিমূলক ভাষায় নিয়মিত পোস্ট করা আপনার পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এমন কোনো বক্তব্য, যা ভিন্নমতের মানুষকে অপমান করে বা বিদ্বেষ ছড়ায়, সেটি দেখে একজন নিয়োগকর্তা আপনার নিরপেক্ষতা, সহনশীলতা ও ভিন্নমতের মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। আপনি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দেখে প্রতিষ্ঠানটি আপনাকে প্রাথমিকভাবে পছন্দও করেছে। কিন্তু নিয়োগের আগে আপনার সামাজিকমাধ্যমের প্রকাশ্য কার্যক্রম দেখতে গিয়ে তারা দেখল, আপনি নিয়মিত ভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষকে অপমান করে পোস্ট করেন। তখন নিয়োগকর্তার মনে আশঙ্কা তৈরি হতে পারে-আপনি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিলে ভিন্নমতের সহকর্মী বা গ্রাহকের সঙ্গে পেশাদার আচরণ করতে পারবেন কি না। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আপনি পিছিয়ে পড়তে পারেন। অথবা আপনি বর্তমানে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু আপনার এমন কার্যক্রম ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। এর ফলে আপনার চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বা আপনাকে বড় কোনো দায়িত্ব দেওয়া থেকে কর্তৃপক্ষ বিরত থাকতে পারে। ১১. অতিরিক্ত রাজনৈতিক বা বিতর্কিত মতাদর্শের প্রচার একজন নাগরিকের রাজনৈতিক মতামত থাকা স্বাভাবিক এবং আইনসঙ্গত মতপ্রকাশের অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সামাজিকমাধ্যমে এমনভাবে চরম বা আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান প্রচার করা, যেখানে ভিন্নমতের মানুষকে শত্রু, অযোগ্য বা ঘৃণার পাত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, সেটি পেশাগত সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। ধরুন, আপনার প্রতিষ্ঠানের একজন গুরুত্বপূর্ণ ক্লায়েন্ট আপনার রাজনৈতিক মতের বিপরীত মত পোষণ করেন। আপনি নিয়মিত সেই মতের সব মানুষকে অপমান করে পোস্ট করেন। ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইল দেখে মনে করলেন, তার সঙ্গে আপনি নিরপেক্ষ ও পেশাদার আচরণ করতে পারবেন না। আপনার ব্যক্তিগত পোস্ট তখন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সম্পর্কেও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। ১২. ভুয়া অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার শো-অফ সামাজিকমাধ্যমে নিজের অর্জন, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা তুলে ধরা দোষের নয়। বরং পেশাগত জীবনে এটি অনেক ক্ষেত্রে উপকারী। কিন্তু যে দক্ষতা আপনার নেই, সেটি নিজের আছে বলে দাবি করা, ছোট কোনো অভিজ্ঞতাকে অনেক বড় করে উপস্থাপন করা কিংবা অন্যের কাজকে নিজের বলে প্রচার করা বিপজ্জনক। কারণ বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের আগে প্রার্থীর সিভি, লিংকডইন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত অনলাইন তথ্য মিলিয়ে দেখতে পারে। ধরুন, আপনি সামাজিকমাধ্যমে দাবি করলেন যে, একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বড় একটি প্রকল্পে আপনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। আপনার পরবর্তী চাকরির ইন্টারভিউতে নিয়োগকর্তা সেই প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলেন। কয়েকটি প্রশ্নের পরই বোঝা গেল, প্রকল্পটিতে আপনার ভূমিকা ছিল খুবই সীমিত। তখন শুধু ওই দাবিটিই নয়, আপনার সিভিতে দেওয়া অন্য তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। ১৩. চাকরি না পাওয়ায় ক্ষোভ আপনি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছিলেন, কিন্তু আপনাকে ডাকা হয়নি। অথবা আপনি ইন্টারভিউ দিয়েছেন, কিন্তু আপনার চাকরি হয়নি। ফলে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সামাজিকমাধ্যমে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। আপনার এই ক্ষোভ প্রকাশ আপনাকে চাকরিটি পাইয়ে দেবে না; বরং আপনার পরবর্তী চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন, আপনার ক্ষোভের পোস্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বা এইচআর বিভাগের কর্মীদের সামনে পড়তে পারে। অনেক সময় এইচআর পেশাজীবীদের বিভিন্ন গ্রুপেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর ফলে তারা পরবর্তীতে আপনাকে তাদের প্রতিষ্ঠানের ভাইভায় ডাকার ক্ষেত্রেও অনাগ্রহী হতে পারেন। ১৪. অফিস বা কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় কর্মক্ষেত্রে সমস্যা, মতবিরোধ বা অসন্তোষ থাকতেই পারে। কিন্তু সহকর্মী, বস, অফিসের অভ্যন্তরীণ আলোচনা, মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত কিংবা প্রতিষ্ঠানের কোনো গোপন বিষয় সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করা পেশাদার আচরণ নয়। কিছু তথ্য প্রকাশ করলে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, চাকরির চুক্তি বা প্রযোজ্য আইনও লঙ্ঘিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে হলে সামাজিকমাধ্যমে যা যা করা যাবে না যেমন, অফিসের একটি মিটিংয়ে নতুন একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনার সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতবিরোধ হলো। ক্ষুব্ধ হয়ে আপনি ফেসবুকে পুরো ঘটনার বর্ণনা লিখে পোস্ট দিলেন। পোস্টটি অফিসের অন্যদের নজরে পড়ল। কর্তৃপক্ষ তখন ভাবতে পারে, ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল কোনো দায়িত্ব দিলে আপনি সেটিও প্রকাশ করে দিতে পারেন। এতে আপনার ওপর প্রতিষ্ঠানের আস্থা কমে যেতে পারে। ১৫. বর্তমান প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা লঙ্ঘন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ব্যবসায়িক কৌশল, নতুন পণ্য, গ্রাহকের তথ্য কিংবা ব্যবস্থাপনার অপ্রকাশিত সিদ্ধান্ত কর্মীদের কাছে থাকলেও সেগুলো প্রকাশের অধিকার সব সময় তাঁদের থাকে না। চাকরির চুক্তি, প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা বা গোপনীয়তা চুক্তি অনুযায়ী এসব তথ্য সুরক্ষিত রাখার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। ধরুন, আপনার কোম্পানি আগামী মাসে নতুন একটি পণ্য বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আপনি উত্তেজিত হয়ে ফেসবুকে ইঙ্গিত দিলেন, এমনকি পণ্যটির ছবিও প্রকাশ করলেন। প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান আগেভাগে তথ্যটি জেনে নিজেদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করল। আপনার একটি পোস্ট তখন কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং আপনার চাকরিও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ১৬. অফিস, বস বা সহকর্মীদের নিয়ে পরোক্ষ ক্ষোভ নাম উল্লেখ না করলেও অনেক সময় পোস্টের ভাষা, সময় এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট দেখে বোঝা যায়, আপনি কাকে উদ্দেশ করে লিখেছেন। ‘আমার অফিসের কিছু মানুষ’, ‘কিছু তথাকথিত বস’ কিংবা ‘যোগ্যতাহীন সহকর্মী’—এ ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টও কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে। ধরুন, বসের সঙ্গে সকালে আপনার কথা-কাটাকাটি হয়েছে। দুপুরে আপনি লিখলেন, ‘পদ বড় হলেই মানুষ বড় হয় না; কিছু অযোগ্য মানুষ ক্ষমতা পেলে অফিস নরক হয়ে যায়।’ আপনি কারও নাম লেখেননি। কিন্তু সহকর্মীরা ঘটনার কথা জানেন। ফলে পোস্টটি কাকে উদ্দেশ করে লেখা, তা বুঝতে তাঁদের অসুবিধা হলো না। এতে পরিস্থিতি সমাধানের বদলে আরও জটিল হতে পারে। ১৭. পূর্ববর্তী বা বর্তমান কর্মক্ষেত্র নিয়ে বিদ্বেষ প্রকাশ কোনো প্রতিষ্ঠান ছেড়ে আসার পর সেই প্রতিষ্ঠানের সবকিছু ভালো বলতে হবে—এমন নয়। যৌক্তিক অভিযোগ থাকলে যথাযথ জায়গায় তা তোলা যেতে পারে। তবে সাবেক প্রতিষ্ঠান, বস বা সহকর্মীদের ব্যক্তিগতভাবে অপমান করা কিংবা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে প্রতিশোধমূলক পোস্ট করা ভবিষ্যৎ নিয়োগকর্তার কাছেও নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। যেমন, চাকরি ছাড়ার বা হারানোর পর আপনি সাবেক কর্মস্থল বা বসকে নিয়ে একের পর এক নেতিবাচক পোস্ট করলেন এবং অফিসের নানা অভ্যন্তরীণ ঘটনা প্রকাশ করলেন। নতুন প্রতিষ্ঠানের একজন এইচআর কর্মকর্তা সেগুলো দেখলে ভাবতে পারেন, ভবিষ্যতে তাদের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গেলেও আপনি একইভাবে তাঁদের অভ্যন্তরীণ বিষয় প্রকাশ করবেন। ফলে আপনাকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সতর্ক হতে পারেন। ১৮. কর্মঘণ্টা বা কাজ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য কাজের চাপ বা অফিস নিয়ে মাঝেমধ্যে বিরক্ত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কর্মঘণ্টায় বসে বারবার ‘বোরিং জব’, ‘টক্সিক অফিস’, ‘কাজ করতে ভালো লাগে না’ কিংবা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করে পোস্ট দেওয়া আপনার কাজের প্রতি মনোভাব সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ধরুন, অফিসে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ শেষ করার সময়সীমা আজই। অথচ দুপুরে আপনি ফেসবুকে লিখলেন, ‘এই বোরিং অফিসে সময়ই কাটে না।’ পোস্টটি আপনার টিম লিডারের চোখে পড়ল। তিনি হয়তো ভাবতে পারেন, গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময়েও আপনি দায়িত্বের চেয়ে সামাজিকমাধ্যমে নিজের অসন্তোষ প্রকাশে বেশি মনোযোগী। ১৯. প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের বিরুদ্ধে কনটেন্ট প্রকাশ আপনি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে ব্যক্তিগত সামাজিকমাধ্যমের সব বক্তব্য প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য হয়ে যায় না। তারপরও এমন কিছু কনটেন্ট, মিম, ট্রল বা প্রচারণায় অংশ নেওয়া উচিত নয়, যা সরাসরি আপনার প্রতিষ্ঠানের পণ্য, গ্রাহক, সহকর্মী বা ব্র্যান্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে আপনার প্রোফাইলে কর্মস্থলের পরিচয় প্রকাশিত থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন, আপনি একটি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে কাজ করেন। মজা করে নিজের কোম্পানির একটি পণ্যকে ‘বাজারের সবচেয়ে বাজে ফোন’ উল্লেখ করে একটি ট্রল শেয়ার করলেন। আপনার কাছে এটি নিছক রসিকতা হলেও গ্রাহকের কাছে প্রশ্ন উঠতে পারে-কোম্পানির নিজের কর্মীই যদি পণ্যের ওপর আস্থা না রাখেন, তাহলে তারা কেন সেটি কিনবেন? ২০. স্বার্থের সংঘাত বর্তমান কর্মক্ষেত্রের সরাসরি প্রতিযোগী কোনো প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা বা পণ্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা আর্থিক সম্পর্ক থাকলে সেটি অনেক ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিজের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রচার চালালে কর্তৃপক্ষ আপনার আনুগত্য ও পেশাগত নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। ধরুন, আপনি একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে কাজ করেন। অথচ সামাজিকমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রচার করছেন এবং নিজের প্রতিষ্ঠানের পণ্যকে তুলনামূলকভাবে খারাপ দেখাচ্ছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা জানতে চাইতে পারেন—প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আপনার কোনো আর্থিক বা অন্য স্বার্থের সম্পর্ক আছে কি না। শেষ কথা সামাজিকমাধ্যমে আপনি কী লিখছেন, কোন ছবি দিচ্ছেন, কী শেয়ার করছেন কিংবা কী মন্তব্য করছেন-এসবকে এখন আর শুধু ‘ব্যক্তিগত ফেসবুকের বিষয়’ হিসেবে দেখার সুযোগ সব ক্ষেত্রে নেই। বিশেষ করে চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিজীবীদের মনে রাখা দরকার, সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে এবং বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আপনার পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে চাকরি রক্ষার জন্য সামাজিকমাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ বন্ধ করে দিতে হবে। ব্যক্তিগত মত, রাজনৈতিক মত, সমালোচনা কিংবা প্রতিবাদ প্রকাশ করা একজন মানুষের স্বাভাবিক অধিকার। মূল বিষয় হলো-আপনি যা প্রকাশ করছেন সেটি সত্য কি না, ভাষা দায়িত্বশীল কি না, অন্যের অধিকার ও গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন করছে কি না, কর্মক্ষেত্রের বৈধ গোপনীয়তা ভঙ্গ করছে কি না এবং কয়েক বছর পর পোস্টটি সামনে এলেও আপনি সেটির দায়িত্ব নিতে পারবেন কি না। তাই কোনো সংবেদনশীল পোস্ট দেওয়ার আগে নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে পারেন—তথ্যটি কি সত্য ও যাচাই করা? এটি প্রকাশের অধিকার কি আমার আছে? এতে অন্য কারও গোপনীয়তা বা নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি? আমার শিক্ষক, সহকর্মী, বস, ভবিষ্যৎ নিয়োগকর্তা বা পরিবারের সদস্য এটি দেখলেও কি আমি একইভাবে কথাটির পক্ষে দাঁড়াতে পারব? উত্তর নিয়ে যদি দ্বিধা থাকে, পোস্ট করার আগে আরেকবার ভাবুন। কারণ সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্ট লিখতে হয়তো দুই মিনিট লাগে, কিন্তু তার স্ক্রিনশট বা ডিজিটাল রেকর্ডের প্রভাব অনেক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল পরিবর্তন আসছে। অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতি আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে...

ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেন, 'অনেক সমালোচনা সত্ত্বেও আমরা গতকাল সংসদে গিয়েছি। কারণ জনগণ এগারো দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে। আমরা সংসদে গিয়েছি সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য, উচ্চ কক্ষ বাস্তবায়ন করার জন্য, সংবিধান সংস্কার করার জন্য।' ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'দ্রুত এই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। গণহত্যা ও শপথ ভঙ্গের দায়ে চুপ্পুকে গ্রেফতার করতে হবে।' জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহর বাড়িতে আওয়ামীলীগের অগ্নিসংযোগ ঘটনা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'গুপ্ত হ*ত্যা, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সবসময় রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। সাইফুল্লাহর বাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। ময়মনসিংহবাসীর প্রতি আহ্বান, আপনারা এ সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করুন।' অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কুড়িগ্রাম দুই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানসহ কেন্দ্রীয় ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ এগারো দলীয় জোটের ময়মনসিংহ বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।শ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, নতুন সরকার মাত্র কাজ শুরু করেছে, কিন্তু একটি শ্রেণীর রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, কোনো সরকারকে বিব্রত করে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নের জন্য সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। মঙ্গলবার রাজধানীর শায়লা হাফিজ মিলনায়তনে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ইউনিট বিএনপি আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেন, নতুন সরকার দেশের আন্দোলনের দাবির একটি অংশ হিসেবে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৩৬ হাজার সুবিধা চালু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও অনেক সুবিধা চালু করা হবে। তিনি বলেন, সরকার একেবারেই নতুন। কিন্তু একটি শ্রেণীর মানুষ ও রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই এমনভাবে কথা বলছে যেন এটি ১৭ বছরের পুরোনো সরকার, অথচ কিছুই করছে না। তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই সরকার কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনের রেশ কাটাতেই অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। মির্জা আব্বাস বলেন, এখনই সবকিছু দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি সরকারই সময় নিয়ে কাজ করে। তবে বর্তমান সরকার বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ না পেয়েই কাজ শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বেই একটি বৈশ্বিক দুরবস্থা চলছে। এ কারণে কিছু সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একটি শ্রেণীর রাজনৈতিক দল এসব বিষয়কে ব্যবহার করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, কোনো সরকারকে বিব্রত করে যদি কেউ ক্ষমতায় আসে, তাহলে তাকেও একদিন বিব্রত করা হবে। এতে দেশের উন্নয়ন হবে না। মির্জা আব্বাস বলেন, উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তা–ঘাট বা সেতু নির্মাণকে বোঝায় না। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ। তিনি চিকিৎসা খাতের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, তিনি নিজেও একজন রোগী হিসেবে চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, একসময় এই হাসপাতালের চিকিৎসার মান খুব ভালো ছিল। এখন কেমন আছে তিনি জানেন না, তবে হাসপাতালে এসে তার কাছে পরিবেশ ভালো মনে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় এখানে বিদেশি চিকিৎসকরাও দায়িত্ব পালন করেছেন। মির্জা আব্বাস বলেন, হাসপাতালটি খুব সুন্দর জায়গায় অবস্থিত এবং বড় জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে। তার মতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরে এত বড় জায়গা নিয়ে খুব কম হাসপাতাল রয়েছে। তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, মানুষের সেবা করা একদিকে পেশা, অন্যদিকে খেদমতের কাজ। এই দুই বিষয় একসঙ্গে ধরে রেখে চিকিৎসার মান আরও উন্নত করতে হবে। মির্জা আব্বাস বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে হার্টের অপারেশন, চোখের চিকিৎসা, দাঁতের চিকিৎসা ও ডায়াবেটিস চিকিৎসার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশ থেকেও রোগীরা বাংলাদেশে আসে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, উন্নত চিকিৎসা ও সেবার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন এবং একই সঙ্গে সরকার ও দেশের মানুষকে সহযোগিতা করবেন।
সংবাদ লোড হচ্ছে...

নিজস্ব প্রতিবেদক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, নতুন সরকার মাত্র কাজ শুরু করেছে, কিন্তু একটি শ্রেণীর রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, কোনো সরকারকে বিব্রত করে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নের জন্য সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। মঙ্গলবার রাজধানীর শায়লা হাফিজ মিলনায়তনে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ইউনিট বিএনপি আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস বলেন, নতুন সরকার দেশের আন্দোলনের দাবির একটি অংশ হিসেবে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৩৬ হাজার সুবিধা চালু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও অনেক সুবিধা চালু করা হবে। তিনি বলেন, সরকার একেবারেই নতুন। কিন্তু একটি শ্রেণীর মানুষ ও রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই এমনভাবে কথা বলছে যেন এটি ১৭ বছরের পুরোনো সরকার, অথচ কিছুই করছে না। তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই সরকার কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনের রেশ কাটাতেই অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। মির্জা আব্বাস বলেন, এখনই সবকিছু দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি সরকারই সময় নিয়ে কাজ করে। তবে বর্তমান সরকার বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ না পেয়েই কাজ শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বেই একটি বৈশ্বিক দুরবস্থা চলছে। এ কারণে কিছু সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু একটি শ্রেণীর রাজনৈতিক দল এসব বিষয়কে ব্যবহার করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, কোনো সরকারকে বিব্রত করে যদি কেউ ক্ষমতায় আসে, তাহলে তাকেও একদিন বিব্রত করা হবে। এতে দেশের উন্নয়ন হবে না। মির্জা আব্বাস বলেন, উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তা–ঘাট বা সেতু নির্মাণকে বোঝায় না। মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ। তিনি চিকিৎসা খাতের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, তিনি নিজেও একজন রোগী হিসেবে চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, একসময় এই হাসপাতালের চিকিৎসার মান খুব ভালো ছিল। এখন কেমন আছে তিনি জানেন না, তবে হাসপাতালে এসে তার কাছে পরিবেশ ভালো মনে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় এখানে বিদেশি চিকিৎসকরাও দায়িত্ব পালন করেছেন। মির্জা আব্বাস বলেন, হাসপাতালটি খুব সুন্দর জায়গায় অবস্থিত এবং বড় জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে। তার মতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরে এত বড় জায়গা নিয়ে খুব কম হাসপাতাল রয়েছে। তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, মানুষের সেবা করা একদিকে পেশা, অন্যদিকে খেদমতের কাজ। এই দুই বিষয় একসঙ্গে ধরে রেখে চিকিৎসার মান আরও উন্নত করতে হবে। মির্জা আব্বাস বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে হার্টের অপারেশন, চোখের চিকিৎসা, দাঁতের চিকিৎসা ও ডায়াবেটিস চিকিৎসার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশ থেকেও রোগীরা বাংলাদেশে আসে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, উন্নত চিকিৎসা ও সেবার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন এবং একই সঙ্গে সরকার ও দেশের মানুষকে সহযোগিতা করবেন।

আজ ০৮ মার্চ রবিবার বরিশালের হালিমা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির বরিশাল বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেন, 'আবারও আওয়ামীলীগের মতো হয়রানি মূলক মামলা দেওয়ার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা বলতে চাই, মামলা দিয়ে পাটওয়ারীদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। এক পাটওয়ারীর মুখ বন্ধ করতে চাইলে ঘরে ঘরে পাটওয়ারী তৈরি হবে।' বিএনপিকে আওয়ামীলীগের মতো করে দেখতে চান না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি ফ্যাসিবাদ বিরোধী দল। গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিল। কিন্তু বিএনপি যদি রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে আওয়ামীলীগ আর ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে, দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজদের আশ্রয় দেয় তাহলে আমাদের রাজপথে প্রতিরোধ ছাড়া উপায় থাকবে না।' বরিশালের নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের অনেক প্রার্থীকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা সেটা মেনে নিয়েছি। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো কারচুপি মেনে নেয়া হবে না। ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তরিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও বরিশাল বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ এগারো দলীয় জোটের বরিশাল বিভাগীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদকে অপরাধমূলক ভয়ভীতি দেখানো এবং মানহানির অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) মামলার আবেদনটি করেন রমনা থানা বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম। বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা মামলাটির আবেদন জমা দিয়েছি। সকাল ১১টার দিকে মামলার আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।’ বাদীর তার অভিযোগে উল্লেখ করে বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি নিয়ে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বিপুল ভোটে হেরে যান। নির্বাচনের সময় এই আসামি বিভিন্ন মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে যাওয়ার পর আরও বেশি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে মিথ্যা মানহানিকর বক্তব্য ও বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাদী দেখেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মানহানিকর হুবহু বক্তব্যে কয়েকটি অনলাইন নিউজ মিডিয়াতে এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিমিনাল র্যাংকিয়ে নাম্বার ওয়ান গডফাদার ‘মির্জা আব্বাস’ —এই বক্তব্যগুলো অত্যন্ত মানহানিকর ও নিন্দনীয় কাজ। এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল করে দিয়ে মির্জা আব্বাসের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামির এসব বক্তব্য ফেসবুকে দেখে বাদী ও মির্জা আব্বাস বিস্মিত হয়েছেন। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব বক্তব্য দেখেছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে একের পর এক বাদী ও মির্জা আব্বাসের সুনাম ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের জন্য মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে, যা সব প্রকার শিষ্টাচার সভ্যতার রীতিনীতি বহিঃভূত এবং মানহানিকর বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবার ভারত ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। সোমবার ( ১৬ ফেব্রুয়ারি) স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে এমন বার্তা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির বিজয় এবং বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার নিয়োগ উপলক্ষ্যে আপনাকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। এই মহান দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে আপনার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, আপনার এই বিজয় বাংলাদেশের জনগণের আপনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রমাণ এবং দেশকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার আপনার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি তাদের ম্যান্ডেটের বহিঃপ্রকাশ। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে গভীর প্রোথিত বন্ধুত্ব, যা আমাদের অভিন্ন ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আমাদের নিজ নিজ উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে পথনির্দেশক নীতি হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

গতকালও আমাদের এলাকায় নারীদের উপর আক্রমণ করছে, নারীদের হয়রানি করছে। আমরা আপনাদের স্পষ্ট করে বলছি, নারীদের নিয়ে বাঁদরামি কইরেন না। বাঁদরামি করলে একটা একটা করে গাছে ঝুলিয়ে দিব বলেও ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন। এমনভাবে ঝুলিয়ে দিব, এক গাছে থেকে আরেক গাছেও লাফিয়ে যেতে পারবা না। রোববার (১ ফেব্রুয়ারী) রংপুর-৪ আসনের অধীন এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রার পথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনি পথসভায় সভাপতির বক্তব্যে এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষেরা দীর্ঘ সময় ধরে জুলুমের শিকার হয়েছি। শতশত গুম খুন জুলুমের মধ্যে দিয়ে নতুন এক বাংলাদেশ পেয়েছি। জুলুম থেকে মুক্ত হলেও দুর্নীতি, ঘুষ, রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত হতে পারি নাই। সেই সংস্কার করতে বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোট করেছি। দালাল ও নেতার উপর নির্ভরতা কমিয়ে জনগণের সেবাগুলো জনগণের দোড়গড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। কাউনিয়া হারাগাছায় সকল আয়ব্যায়ের হিসাব বোর্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন করব। গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদে প্রসব করার জন্য ভ্রাম্যমান মেডিকেল সেন্টার করব ইনশাআল্লাহ। তারা বলছে হেলথ কার্ড করবে। কিন্তু আমরা আমাদের মায়েদের দোরগোড়ায় ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল সেন্টার করে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিব ইনশাআল্লাহ। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, আমাদের অভাব তিস্তার গভীরতার অভাব, পানির অভাব। এগারো দলীয় জোট নির্বাচিত হলে এনসিপির শাপলা কলি মার্কা জিতলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। আমরা উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। যদি এগারো দলীয় জোট নির্বাচিত হয় তাহলে আমরা উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করব ইনশাআল্লাহ। কেউ কেউ আমাদের বলে চেংড়া ছেলে কি করতে পারবে। কিন্তু আমাদের রংপুরের ছেলে আবু সাঈদ চেংড়ামো করে দুই হাত পেতে বুক পেতে না দিত! তাহলে আমরা আজও ফ্যাসিবাদ মুক্ত হতে পারতাম না। আমরা কথা দিচ্ছি, চেংড়ামো করতে করতেই রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের উন্নতি করব। চেংড়ামো করতে করতেই বাংলাদেশের সকল অনিয়ম দূর করব ইনশাআল্লাহ। গণভোটের জন্য আমাদের আর না এর কোন অপশন নেই। আমাদের অবশ্যই হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হারাগাছে নাকি শিল্পপতিরা বসবাস করে! বারোশত মানুষের জন্য একটা মাত্র শৌচাগার রয়েছে। আমি যদি নির্বাচিত হই, তাহলে বড়লোকের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলব ইনশাআল্লাহ। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ফ্যাসিবাদী সময়ের মতো মিডিয়া একটা পক্ষে ঝুঁকে পড়েছে। মিডিয়া মালিকদের বলছি, এখনি কোন একপক্ষে ঝুঁকে পইড়েন না। খেলা যে কোন লেভেলে চলছে। জনগণ কখন কাকে নিয়ে আসবে টেরও পাবেন না। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমরা এগারো দলীয় জোট আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে, শাপলা গণহত্যা, জুলাই গণহত্যা এবং হাদী ভাইয়ের হত্যাসহ সকল হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে ৫৪ বছরের ইতিহাস লুটপাটের ইতিহাস। আমরা এগারো দলীয় জোট সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। আমরা ১১ দলীয় জোট আপনাদের কর্মকর্তা নয় বরং আমাদের নিয়োগ কর্তা হিসেবে গ্রহণ করব। আপনারা আঞ্চলিক বৈষম্যের স্বীকার। আমরা নির্বাচিত হলে আর কোন আঞ্চলিক বৈষম্য হতে দিব না ইনশাআল্লাহ। আকতার হোসেনের অনুরোধে দশ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আকতার ভাইয়ের অনুরোধে তিস্তার পাড় বাঁধাইয়ের জন্য দুইশত পঞ্চাশ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলাম। আমরা ফ্যাসিবাদের সময় থেকে দেখেছি আকতার হোসেনের রাজনৈতিক যাত্রা প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে জুলাই বিপ্লব সফল হয়েছে। আমরা দেখি কোন কোন দল ফ্যাসিবাদী শক্তির সাথে বন্ধুত্ব করছে। যারা ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রেখেছিল, যাদের কারণে আবরার ফাহাদ ও শরীফ উসমান হাদী শহীদ হয়েছিল, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করছে। আমরা আর কোন আধিপত্যবাদের সহযোগীদের নির্বাচিত করব না ইনশাআল্লাহ। আমটরা সাধারণ মানুষ, মা-বোনদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এগারো দলীয় জোট আপনাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। আর কোন দিন বর্ষার সময় পানি দিয়ে বন্যা তৈরি করা, গরমের সময় পানিবিহীন রেখে পানি সংকট থাকবে না। আপনারা আমাদের নির্বাচিত করুন। আপনাদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটের বিষয়ে বলতে চাই। আমরা যদি ফেলানীকে কাঁটাতারে ঝুলতে দেখতে না চাই, হাসিনার মতো আর কাউকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে না দেখতে চাই তাহলে হ্যাঁ ভোটে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, কাউনিয়াবাসী আমরা জানি আপনাদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুশাসনের কোন ভরসা নেই। কিন্তু আকতার হোসেন নির্বাচিত হলে আপনাদের অধিকার আদায় করা হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা চাঁদাবাজদের অর্থ নিয়ে নির্বাচন করতে আসি নাই, আমরা চাঁদাবাজদের জীবনকে জাহান্নাম করতে এসেছি। মাদক দিয়ে যাদের জীবিকা চলে তাদের কাছে থেকে দেশবাসী ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারে না। আর যারা শাড়ি আর লুঙ্গি নিয়ে আসবে তাদের আগামী ১২ তারিখ প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আমরা লুঙ্গি, শাড়ি আর স্কুল ব্যাগ নিয়ে আসতে পারব না। কিন্তু আপনারা এই ১২ দিন আমাদের জন্য কষ্ট করলে আগামী পাঁচ বছর আপনাদের খাদেম হয়ে থাকব ইনশাআল্লাহ। আপনারা যদি একজনকে আজীবন ক্ষমতায় দেখতে না চান, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ আর দখলবাজ মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাইলে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। বিএনপি প্রকাশ্যে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে কিন্তু নেতাকর্মীরা গোপনে না ভোটের পক্ষে প্রচারণা করছে। এই ওপেন গোপন অবস্থান বাদ দিতে হবে । বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ভারতের বিজেপি র বাংলাদেশের শাখা জাতীয় পার্টি না ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আপনারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ভারতীয় দালাল জাতীয় পার্টির কফিনে শেষ পেরেক মেরে জানাজা পড়িয়ে ফেলবেন। রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা শক্তভাবে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। জামায়াত, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এনসিপিসহ এগারো দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী আকতার হোসেনকে বিজয়ী করতে হবে। জুলুম-নির্যাতন, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শাপলা কলিতে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসানের সঞ্চালনায় নির্বাচনি পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসেন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত, উত্তরান্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা ও সাকিব মাহদী প্রমুখ।

ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেন, 'অনেক সমালোচনা সত্ত্বেও আমরা গতকাল সংসদে গিয়েছি। কারণ জনগণ এগারো দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে। আমরা সংসদে গিয়েছি সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য, উচ্চ কক্ষ বাস্তবায়ন করার জন্য, সংবিধান সংস্কার করার জন্য।' ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'দ্রুত এই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। গণহত্যা ও শপথ ভঙ্গের দায়ে চুপ্পুকে গ্রেফতার করতে হবে।' জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহর বাড়িতে আওয়ামীলীগের অগ্নিসংযোগ ঘটনা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'গুপ্ত হ*ত্যা, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সবসময় রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। সাইফুল্লাহর বাড়িতে অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। ময়মনসিংহবাসীর প্রতি আহ্বান, আপনারা এ সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করুন।' অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কুড়িগ্রাম দুই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানসহ কেন্দ্রীয় ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ এগারো দলীয় জোটের ময়মনসিংহ বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।শ করেন।
বিস্তারিত পড়ুন
মায়ের বয়স ১৩০ বছর, তাকে দেখভাল করছেন ১০০ বছরের মেয়ে। বয়সের ভারে দুজনই অসহায়। তবু একে অপরই তাদের শেষ ভরসা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরেই কাটছিল তাদের দিন-রাত। এই দুই শতবর্ষী মা-মেয়ে হলেন ফাতেমা বেগম ও তার মেয়ে মানিকজান। স্বাধীনতার পরপরই স্বামীকে হারান ফাতেমা বেগম। প্রায় এক দশক আগে মারা যান তার একমাত্র ছেলেও। এরপর থেকে মা-মেয়ে একে অপরকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছেন। জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের বয়স কম উল্লেখ থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, ফাতেমা বেগমের প্রকৃত বয়স ১২৫ থেকে ১৩০ বছরের কাছাকাছি। প্রতিবেশীরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করলেও একটি নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরেই অপূর্ণ ছিল। তাদের এমন অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে এগিয়ে আসে মানবিক সেবা ফাউন্ডেশন। প্রথমে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার পর ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘরটি দেখে তাদের জন্য একটি টেকসই ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি। নতুন ঘরের খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত মা-মেয়ে। শত বছরেরও বেশি সময়ের স্মৃতি, শৈশব, সংসার আর হারিয়ে যাওয়া দিনের গল্প বলতে বলতে তাদের চোখে ফুটে ওঠে স্বস্তির ছাপ। গামছার দোলনায় খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর জীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই কেটেছে সংগ্রাম আর অভাবের সঙ্গে লড়াই করে। শেষ বয়সে একটি নিরাপদ ঘরই যেন তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। স্থানীয়দের আশা, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে ফাতেমা ও মানিকজানের মতো আরও অনেকের জীবনেও ফিরবে নিরাপত্তা, স্বস্তি ও নতুন আশার আলো।
বিস্তারিত পড়ুন
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর ছাপ ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন...
বিস্তারিত পড়ুন
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নতুন আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা এতে অংশ নিচ্ছেন...

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নতুন আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা এতে অংশ নিচ্ছেন...

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর ছাপ ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন...

বিশ্বকাপ যেন বিভিন্ন রেকর্ডের পসরা সাজিয়ে বসে সবসময়েই। ব্রাজিল ও জাপানের মধ্যকার দ্বিতীয় নকআউট রাউন্ডের ম্যাচেও দেখা গেল বিভিন্ন রেকর্ড। এবার দীর্ঘদিন পর এক রেকর্ডকে আবার নতুন করে লিখলো ব্রাজিল। বিশ্বকাপে নকআউট রাউন্ডে প্রথমে গোল খেয়ে ২০০২ সালের পর কোনো ম্যাচ জিতেনি ব্রাজিল। শেষবার ইংল্যান্ডের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে পিছিয়ে পড়েও জিতেছিল ব্রাজিল। আজকে জাপানের বিপক্ষেও প্রথমে পিছিয়ে পড়ে কার্লো আনচেলত্তির দল। পরে দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরো গোল করে সমতায় ফেরান। এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে মার্টিনেলির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় ব্রাজিল। ফলে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটপর্বে পিছিয়ে পড়েও জেতার রেকর্ড গড়লো ব্রাজিল।
বিস্তারিত
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। টানা কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশের সামনে কার্যত দুটি পথই খোলা ছিল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অথবা পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ানো। শেষ পর্যন্ত ভারতে না যাওয়ার অবস্থানেই অনড় থাকল বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধে সুবিচার করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেই ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই অবস্থানে তারা দৃঢ়ভাবে অনড়। ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, আমরা সবাই স্বাভাবিকভাবেই চাইতাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু ভারতে খেলার ক্ষেত্রে যে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, সেটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই আশঙ্কা কোনো অনুমান বা বায়বীয় বিশ্লেষণ থেকে তৈরি হয়নি, বরং বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত। তার বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করা হয়, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই বাংলাদেশের এই অবস্থান এবং সেই উদ্বেগ এখনো বহাল রয়েছে। এরপর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ এখনও চায় তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক। তিনি বলেন, আমরা বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাব। এদিকে, কট্টরপন্থীদের আন্দোলনের মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের একটি দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে আইসিসি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। পিএসএলের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম ও লোগো উন্মোচন এ প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি বলেন, মুস্তাফিজ নিজে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়াননি, তার কোনো ইনজুরি ছিল না এবং বিসিবিও তার এনওসি বাতিল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পরই আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং বিকল্প ভেন্যুতে খেলার দাবি জানাই। বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দাবির বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।
বিস্তারিত
নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশের মেয়েরা। কলম্বোতে টসে হেরে প্রথমে ফিল্ডিং করতে নামে বাংলাদেশ। মারুফা-স্বর্ণাদের বোলিং তোপে ৩৮ দশমিক ৩ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে গুঁটিয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩১ দশমিক ১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিগার সুলতানার দল। ব্যাট হাতে নৈপুণ্য দেখান রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক। তরুণ এই ওপেনারের দুর্দান্ত ফিফটিতে ১১৩ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। টাইগ্রেসদের সেরা বোলার ছিলেন স্বর্ণা আক্তার, যিনি ৩ দশমিক ৩ ওভার বল করে ৩ মেডেনসহ মাত্র ৫ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন নাহিদা আক্তার ও মারুফা আক্তার। একটি করে উইকেট ভাগ করে নেন নিশিতা আক্তার নিশি, ফাহিমা খাতুন ও রাবেয়া খান। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন রামিন শামীম। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা কিছুটা মন্থর ছিল বাংলাদেশের। ফারজানা হক পিংকি (২) এবং শারমিন আক্তার (১০) দ্রুত বিদায় নিলেও, এক প্রান্ত আগলে রাখেন ওপেনার রুবাইয়া হায়দার। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির সঙ্গে তার ৬২ রানের জুটি গড়ে ওঠে। ৪৪ বলে ২৩ রান করে জ্যোতি আউট হন। তবে অন্য প্রান্তে রুবাইয়া তুলে নেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত সোবানা মোস্তারিকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ৭৭ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন রুবাইয়া। আর সোবানা মোস্তারি ১৯ বলে ৬ চারে দ্রুত ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই জয়ে ৮ দলের মধ্যে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলার মেয়েরা। এবারের আসরে সব দলই একে অপরের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্বের বাকি ৬টি ম্যাচ জ্যেতিরা খেলবে ভারতের মাটিতে। গ্রুপ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের সেমি-ফাইনালের টিকিট পাবে সেরা চার দল।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপিত হয়েছে। এক খেলোয়াড় একটি ম্যাচে পাঁচটি গোল করে ইতিহাস গড়েছেন...

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে নতুন প্রতিভার আবির্ভাব ঘটেছে। তার প্রথম ছবি ইতিমধ্যে দর্শকদের মন জয় করেছে...

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন অধিনায়ক নিয়োগ করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে দল নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে...

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণি। ব্যক্তিগত জীবন এবং নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রায়ই তিনি আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন; তবে তা কাজের তুলনায় বেশি। পরীমণি নিজের ব্যক্তিগত জীবন বেশ উপভোগ করেন; আর সেসব মুহূর্ত ভক্তদের মাঝে ভাগ করে নিতে পছন্দ করেন নায়িকা। চলছে শীতের মৌসুম; অর্থাৎ পিঠা-পার্বণ তো চলবেই! আর সাধারণের মতো তিনিও পিঠা খেতে ঢাকা ছাড়লেন। শুক্রবার দুপুরেই ঢাকা ছাড়েন এই নায়িকা; পথিমধ্যে ছবি তুলে জানান দিলেন তার ভ্রমণের কথা। পরীমণি তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছেন। ছবিতে দেখা যায়, নায়িকা ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি থেকে নেমেছেন। শুভ্র সাদা রঙের একটি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলছেন। কোনো ছবিতে তাকে হাসিখুশি মুখে হাত উঁচিয়ে ভি সাইন দিতে দেখাতে দেখা যায়, আবার কোনো ছবিতে তাকে আনন্দে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। • গান গেয়ে সমালোচনার মুখে পরীমণি ফিটনেস ধরে রাখার রহস্য জানালেন পরীমণি ছবিগুলোতে নায়িকার পরনে ছিল জিন্স, টি শার্ট ও জ্যাকেট। পেছনে সবুজ গাছপালা ও পরিষ্কার নীল আকাশ ছবিগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ছবির ক্যাপশনে পরীমণি লিখেছেন, ‘ভালো থেকো আমার প্রিয় শহর! যাই, একটু পিঠা খেয়ে আসি!’ • পরীমণির এই ছবিটি নজর কেড়েছে ভক্তদের। মুহূর্তেই তা হাজার হাজার লাইক ও মন্তব্যে ভরে উঠেছে। নেটিজেনদের অনেকের অনুমান, নিজের গ্রামের বাড়ি বরিশালের দিকে সম্ভবত রওনা হয়েছেন নায়িকা; সেখানেই শীতকালীন পিঠা খেতে যাচ্ছেন তিনি।
বিস্তারিত পড়ুন
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি শিল্পা শেট্টি এবং রাজ কুন্দ্রা। জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে তারা একে অপরের পাশে থেকেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজ কুন্দ্রা তাদের প্রেমকাহিনি নিয়ে এক বিশেষ তথ্য ফাঁস করেছেন। বিজ্ঞাপন তিনি জানান, শিল্পাকে বিয়ে করার জন্য তাকে লন্ডন ছেড়ে মুম্বাইয়ে চলে আসতে হয়েছিল। রাজ কুন্দ্রা জানান, শিল্পার একটাই শর্ত ছিল, তিনি কোনওভাবেই ভারত ছেড়ে অন্য দেশে থাকবেন না। রাজ কুন্দ্রা বলেন, “শিল্পা আমাকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিল, আমি কোনও বিদেশি বা এনআরআইকে বিয়ে করব না। আমাকে ভারতেই থাকতে হবে, আমি দেশ ছাড়তে পারব না।” বিজ্ঞাপন লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজ ২০০৭ সালে দুবাই চলে যান। সেখানেই শিল্পার একজন ম্যানেজারের মাধ্যমে তাদের বন্ধুত্ব হয়। রাজ বলেন, “কথা বলতে বলতে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। তখন থেকেই আমি ওকে বিয়ে করার চেষ্টা শুরু করি।” শিল্পা ভারতে থাকার ব্যাপারে এতটাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন যে, রাজ কুন্দ্রা শিল্পাকে বোঝানোর জন্য ভারতে নিজের কোনো সম্পত্তি না থাকা সত্ত্বেও একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্টকে ফোন করে দ্রুত তাদের জন্য একটি ফ্ল্যাট কিনে নেন। এরপরই তিনি শিল্পাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বিজ্ঞাপন রাজের এই সিদ্ধান্তে মুগ্ধ হয়ে শিল্পা তাঁকে বিয়ে করতে রাজি হন। রাজ বলেন, “আমার কাছে এটা কোনো বড় ব্যাপার ছিল না। আমি যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করতে পারতাম। শিল্পার ওপর আমার মন বসে গিয়েছিল, তাই আমাকে সব চেষ্টা করতে হয়েছিল। আমি ওকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে আমি তাকে কখনো ভারত ছাড়তে বাধ্য করব না। আমরা শুধু ছুটির জন্য বাইরে যাব। ও ভারতেরই মেয়ে, তাই আমরা ভারতেই থাকব।” সম্প্রতি এই দম্পতি বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজ কুন্দ্রা আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কথা শুনছেন। মহারাজের দুটো কিডনিই অকেজো হয়ে গিয়েছে শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে রাজ তাকে নিজের কিডনি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। যদিও মহারাজ সেই প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন।

বাংলা গানের জগতে নতুন ধারার সংগীত শ্রোতাদের মুগ্ধ করছে। যুব প্রজন্মের শিল্পীরা ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটাচ্ছেন...

বাংলা গানের জগতে নতুন ধারার সংগীত শ্রোতাদের মুগ্ধ করছে। যুব প্রজন্মের শিল্পীরা ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটাচ্ছেন...