বিশ্বকাপ যেন বিভিন্ন রেকর্ডের পসরা সাজিয়ে বসে সবসময়েই। ব্রাজিল ও জাপানের মধ্যকার দ্বিতীয় নকআউট রাউন্ডের ম্যাচেও দেখা গেল বিভিন্ন রেকর্ড। এবার দীর্ঘদিন পর এক রেকর্ডকে আবার নতুন করে লিখলো ব্রাজিল।
বিশ্বকাপে নকআউট রাউন্ডে প্রথমে গোল খেয়ে ২০০২ সালের পর কোনো ম্যাচ জিতেনি ব্রাজিল। শেষবার ইংল্যান্ডের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে পিছিয়ে পড়েও জিতেছিল ব্রাজিল।
আজকে জাপানের বিপক্ষেও প্রথমে পিছিয়ে পড়ে কার্লো আনচেলত্তির দল। পরে দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরো গোল করে সমতায় ফেরান। এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে মার্টিনেলির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় ব্রাজিল।
ফলে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটপর্বে পিছিয়ে পড়েও জেতার রেকর্ড গড়লো ব্রাজিল।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
টানা কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশের সামনে কার্যত দুটি পথই খোলা ছিল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অথবা পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ানো। শেষ পর্যন্ত ভারতে না যাওয়ার অবস্থানেই অনড় থাকল বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধে সুবিচার করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেই ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই অবস্থানে তারা দৃঢ়ভাবে অনড়।
ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, আমরা সবাই স্বাভাবিকভাবেই চাইতাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু ভারতে খেলার ক্ষেত্রে যে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, সেটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই আশঙ্কা কোনো অনুমান বা বায়বীয় বিশ্লেষণ থেকে তৈরি হয়নি, বরং বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।
তার বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করা হয়, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই বাংলাদেশের এই অবস্থান এবং সেই উদ্বেগ এখনো বহাল রয়েছে।
এরপর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ এখনও চায় তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক। তিনি বলেন, আমরা বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাব।
এদিকে, কট্টরপন্থীদের আন্দোলনের মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের একটি দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে আইসিসি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
পিএসএলের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম ও লোগো উন্মোচন
এ প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি বলেন, মুস্তাফিজ নিজে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়াননি, তার কোনো ইনজুরি ছিল না এবং বিসিবিও তার এনওসি বাতিল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পরই আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং বিকল্প ভেন্যুতে খেলার দাবি জানাই।
বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দাবির বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশের মেয়েরা। কলম্বোতে টসে হেরে প্রথমে ফিল্ডিং করতে নামে বাংলাদেশ।
মারুফা-স্বর্ণাদের বোলিং তোপে ৩৮ দশমিক ৩ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে গুঁটিয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩১ দশমিক ১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিগার সুলতানার দল। ব্যাট হাতে নৈপুণ্য দেখান রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক। তরুণ এই ওপেনারের দুর্দান্ত ফিফটিতে ১১৩ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ।
টাইগ্রেসদের সেরা বোলার ছিলেন স্বর্ণা আক্তার, যিনি ৩ দশমিক ৩ ওভার বল করে ৩ মেডেনসহ মাত্র ৫ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন নাহিদা আক্তার ও মারুফা আক্তার। একটি করে উইকেট ভাগ করে নেন নিশিতা আক্তার নিশি, ফাহিমা খাতুন ও রাবেয়া খান। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন রামিন শামীম।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা কিছুটা মন্থর ছিল বাংলাদেশের। ফারজানা হক পিংকি (২) এবং শারমিন আক্তার (১০) দ্রুত বিদায় নিলেও, এক প্রান্ত আগলে রাখেন ওপেনার রুবাইয়া হায়দার।
তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির সঙ্গে তার ৬২ রানের জুটি গড়ে ওঠে। ৪৪ বলে ২৩ রান করে জ্যোতি আউট হন। তবে অন্য প্রান্তে রুবাইয়া তুলে নেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত সোবানা মোস্তারিকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ৭৭ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন রুবাইয়া। আর সোবানা মোস্তারি ১৯ বলে ৬ চারে দ্রুত ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।
এই জয়ে ৮ দলের মধ্যে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলার মেয়েরা। এবারের আসরে সব দলই একে অপরের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্বের বাকি ৬টি ম্যাচ জ্যেতিরা খেলবে ভারতের মাটিতে। গ্রুপ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের সেমি-ফাইনালের টিকিট পাবে সেরা চার দল।